যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত, বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমলো
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলতেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন দেখা গেছে। ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার আভাস পাওয়া যাওয়ায় ওপেকভুক্ত একটি দেশের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কা কমে এসেছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে তেলের দামে।
এদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরান বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করছে। তার এই বক্তব্যকে বাজারে উত্তেজনা কমার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তেলের দাম বেড়ে যায় এবং আগের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। একই সময়ে ডব্লিউটিআই তেলের দামও সেপ্টেম্বরের শেষের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল।
এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত না হয় অথবা বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না করে, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের পথ বেছে নেওয়া হতে পারে। তবে পরিস্থিতিতে নতুন মোড় আসে গত শনিবার, যখন তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করছে। একই সময়ের কাছাকাছি ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, আলোচনার প্রস্তুতি চলছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি আশা করছেন উভয় পক্ষ এমন একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছাবে, যাতে পারমাণবিক অস্ত্রের কোনো সুযোগ থাকবে না। তার মতে, এমন একটি সমঝোতা সম্ভব যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র না থাকার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা যাবে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই মন্তব্য এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস নৌবাহিনী সরাসরি সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা করছে না—এমন খবর মিলিয়ে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে তেলবাজারে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির চাপ কিছুটা কমে যায়।
আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, বাজার এটিকে সংঘাত থেকে সরে আসার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। ফলে গত সপ্তাহে দাম বাড়ার সময় যে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি তেলের দামে যোগ হয়েছিল, তা অনেকটাই কমে গেছে এবং বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিচ্ছেন।
অন্যদিকে ওপেক প্লাস জোট মার্চ মাসের জন্য তেল উৎপাদন অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মৌসুমি কারণে চাহিদা কম থাকায় তারা জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও স্থগিত রেখেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ক্যাপিটাল ইকোনমিকস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি থাকলেও তেলবাজারের মৌলিক পরিস্থিতি এখনও দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। তাদের মতে, গত বছরের ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের অভিজ্ঞতা এবং বাজারে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ থাকার কারণে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুডের দামে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রতিটি পরিবর্তন যেমন বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়া দেয়, তেমনি তেলের দামের ওঠানামা মনে করিয়ে দেয়—বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতা শুধু কূটনীতির বিষয় নয়, তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের খরচের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।