রবিবার , ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাম্প্রতিক
ইউনিয়ন পর্যায়ে মাসে ৫০০ টাকা ভ্যাটের পরিকল্পনা এনবিআরের ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমল স্বর্ণের দাম চাকরি হারালেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে বিদেশি কর্মীদের ৪১ দেশে সম্প্রসারিত হচ্ছে প্রবাসীদের এনআইডি সেবা গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে লংমার্চ নয়, কার্যকর পরিকল্পনা দরকার: প্রধানমন্ত্রী বাংলা কিউআরে সপ্তাহে লেনদেন ছাড়াল ৭০০ কোটি টাকা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী র‍্যাবের সঙ্গে এসআরবির কোনো সম্পর্ক নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেঙ্গু কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতে মাউশির নির্দেশ নবম পে-স্কেলের গেজেট ভেটিংয়ে, প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষা বিআরটিএর অনুমোদন ছাড়া স্লিপার বাস চলবে না: হাইকোর্ট ৪৮ ঘণ্টায় বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, পাঁচ দিন বৃষ্টির আভাস শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল: সিইসি জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ রাষ্ট্র কখনো শোধ করতে পারবে না: রাষ্ট্রপতি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন, সমীক্ষা ও নকশা শেষ বাঁধনের ওপর হামলা অমার্জনীয় ও নিন্দনীয়: ডেপুটি স্পিকার গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির প্রাথমিকের ১৪,৩৮৪ সহকারী শিক্ষকের যোগদান ১ অক্টোবর ইস্ট লন্ডন মসজিদের প্রেস ব্রিফিং: ১৩ ও ২৬ সেপ্টেম্বর পুরুষ ও নারীদের পৃথক চ্যারিটি রানে অংশগ্রহণের আহ্বান প্রতিবন্ধীদের বিনামূল্যে আইটি ও এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আপস্কিল বাংলাদেশ: রাসেল উল আলম ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকীতে লন্ডনে স্মরণসভা, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিসহ ৭ দাবি বদলেছে জমির নামজারির নিয়ম, ওয়ারিশদের জন্য নতুন নির্দেশনা বিশ্ববাজারে আবার কমল সোনার দাম মধ্যপ্রাচ্যের বড় শ্রমবাজার সংকুচিত, নতুন গন্তব্যে বাড়ছে প্রতারণা জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় নয়: শফিকুর রহমান
হোমজাতীয়নির্বাচনী প্রচারের পরিবেশ ইতিবাচক, ইইউ’র সঙ্গে এফটিএ আলোচনা দ্রুত শুরুর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

নির্বাচনী প্রচারের পরিবেশ ইতিবাচক, ইইউ’র সঙ্গে এফটিএ আলোচনা দ্রুত শুরুর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

icon
দর্পণ টিভি লন্ডন
নির্বাচনী প্রচারের পরিবেশ ইতিবাচক, ইইউ’র সঙ্গে এফটিএ আলোচনা দ্রুত শুরুর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

নির্বাচনী প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স (ইউরোচেম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানো, বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সহজ করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ জোরদারে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যেন বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক, ইইউ বাজারে অব্যাহতভাবে প্রবেশাধিকার পায়, সেজন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে। এর ফলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩০০-এর বেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও একই ধরনের আলোচনা এগিয়ে নিতে চায় সরকার।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জাপানের সঙ্গে ইপিএ বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে এবং রপ্তানি পণ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ হলে বাংলাদেশের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে।

ইউরোচেমের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশ বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা হারাতে পারে। তাই দ্রুত এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরু করা জরুরি। তিনি মনে করেন, এ ধরনের চুক্তি হলে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং পশ্চিমা বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, ভারত ইতোমধ্যে ইইউ’র সঙ্গে এফটিএ করার পথে রয়েছে এবং ভিয়েতনাম আগেই এ ধরনের চুক্তির সুবিধা পাচ্ছে। এতে তারা ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করেছে। ইউরোচেম এফটিএর পক্ষে কাজ করছে এবং ইউরোপের বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্কের ধরন বদলাবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে নয়। তিনি জানান, প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাজার হিসেবে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আনার বিষয়ে ইইউ আগ্রহী। এ লক্ষ্যে ২০২৬ সালে একটি ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে।

মাইকেল মিলার বলেন, ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো যেন বাংলাদেশে সমান সুযোগ পায় এবং বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়, এজন্য আগাম রাজনৈতিক বার্তা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় সুযোগ রয়েছে। দক্ষ শ্রমশক্তি ও তুলনামূলক কম ব্যয় বাংলাদেশের বড় শক্তি উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকার একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছে, যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত করা।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ইইউ পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে বড় আস্থার প্রতীক। তিনি আবারও বলেন, নির্বাচনী প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক।

বৈঠকে সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।