দীর্ঘ ২১ বছর পর কুমিল্লায় যাচ্ছেন তারেক রহমান, তিন উপজেলায় জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ২১ বছর পর কুমিল্লা সফরে যাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। রোববার ২৫ জানুয়ারি তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সদর দক্ষিণ ও দাউদকান্দি উপজেলায় পৃথক তিনটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন বলে জানানো হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের অংশ হিসেবে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক জনসভা করছেন, কুমিল্লা সফরও সেই কর্মসূচির অংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সফরকে ঘিরে জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কুমিল্লা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সফরকে কেন্দ্র করে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে বলে জানানো হয়েছে। বিএনপির নেতারা মনে করছেন, এ সফর দলীয় সাংগঠনিক ঐক্য আরও দৃঢ় করবে এবং নির্বাচনী প্রচারে প্রার্থীদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ভিপি ওয়াসিম জানান, সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী ফুলতলী ডিগবাজি মাঠে জনসভার জন্য মঞ্চ নির্মাণ, গাড়ি পার্কিংসহ প্রয়োজনীয় আয়োজন চূড়ান্ত করা হচ্ছে। একই ধরনের প্রস্তুতি চৌদ্দগ্রাম ও দাউদকান্দিতেও চলছে বলে তিনি জানান।
তারেক রহমানের সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ফেনী হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে, রাত ৭টায় কুমিল্লার সুয়াগাজী ফুলতলী ডিগবাজী মাঠে এবং সাড়ে ৭টায় দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর তিনি নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকায় ফিরবেন বলেও জানানো হয়েছে।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম, পরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ এবং শেষে দাউদকান্দিতে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।
কুমিল্লায় তারেক রহমানকে সরাসরি দেখতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন। নেতাকর্মীদের ভাষ্য, তারা তাকে কাছে থেকে এক নজর দেখা এবং সাক্ষাৎ করার সুযোগের অপেক্ষায় আছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২০০৫ সালে কুমিল্লা স্টেডিয়ামে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সমাবেশে তিনি কুমিল্লায় এসেছিলেন।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বরুড়া আসনের বিএনপি প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, এই সফর শুধু কুমিল্লা নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন পর দলীয় প্রধানের উপস্থিতি দলকে নতুন উদ্দীপনা দেবে এবং মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের আরও ঐক্যবদ্ধ করবে বলে তিনি মনে করেন।