সাকিবকে নিয়ে আগের নমনীয় অবস্থান আর নেই, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান। তবে তাকে ঘিরে সরকারের আগের নমনীয় অবস্থান এখন আর নেই বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
শুক্রবার, ৭ আগস্ট, রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব দেশে ফেরার আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে দেশে ফিরে আদালতের বিচারসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত তিনি। নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও অস্বীকার করেন সাকিব।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে সাকিব দেশে ফেরেননি। সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার গণমাধ্যম আয়োজনে ভার্চুয়ালি অংশ নেওয়ার পর তাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা তৈরি হয়। ওই ঘটনার পর তার মাগুরার বাড়িতেও হামলা হয়।
সাকিবের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, সরকার এতদিন তাকে মূলত একজন ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচনা করে সহনশীল ও নমনীয় অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানের পর সেই সুযোগ আর নেই বলে তিনি মনে করেন। দেশে ফিরলে সাকিবকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাকিবের বিষয়টি দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করে তাকে ক্রিকেটে ফেরানোর বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছিলেন আমিনুল হক। বর্তমানে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রয়টার্সকে সাকিব জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইনজীবীর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার দাবি অনুযায়ী মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছিল। তবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দেশে ফেরার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও আলোচনা করতে চান তিনি।
সাকিব আরও জানান, দেশে ফিরে নিজের বিদায়ী আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলতে চান এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে অংশ নেওয়ার আশা রয়েছে তার। তবে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার নিশ্চয়তাকেই প্রধান শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।