ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে অতিরিক্ত মৃত্যু ১০ হাজার ছাড়াল, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রবীণরা
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জুনের শেষ সপ্তাহে আঘাত হানা ভয়াবহ তাপপ্রবাহের কারণে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ মৃত্যুর বড় অংশই ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিক।
সোমবার ১৩ জুলাই প্রকাশিত ইউরোমমোর তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অতিরিক্ত মৃত্যুর মধ্যে ৯ হাজারের বেশি মানুষ প্রবীণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের পাশাপাশি হৃদরোগ ও শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন জটিলতা বেড়ে যাওয়ায় বয়স্ক মানুষ সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন।
ডেনমার্কের স্টেটেনস সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক এবং ইউরোমমো প্রকল্পের অন্যতম সমন্বয়ক লাসে ভেস্টারগার্ড বলেন, বছরের এই সময়ে এত বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা অস্বাভাবিক। তার মতে, সাম্প্রতিক তীব্র তাপপ্রবাহই মৃত্যুহার বৃদ্ধির প্রধান সম্ভাব্য কারণ।
বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটছে। ২২ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দেয়। ওই সময়ের সাত দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে অতিরিক্ত মৃত্যুর এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে।
ইউরোমমো জানিয়েছে, এর আগের আট সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সম্মিলিত মৃত্যুহার স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় প্রায় ৫০০ জন কম ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে নতুন তথ্য যুক্ত হলে বর্তমান হিসাবের কিছু পরিবর্তন হতে পারে।
সংস্থাটি দেশভিত্তিক মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ না করলেও জানিয়েছে, জুনের শেষ সপ্তাহে ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত মৃত্যুহার দেখা গেছে। বেলজিয়ামের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সায়েনসানোর তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর দেশটিতে কোনো তাপপ্রবাহে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।
এদিকে একই দিনে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে, মে ও জুন মাসে তাপপ্রবাহের কারণে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের যৌথ গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, এসব মৃত্যুর প্রায় ৪২ শতাংশের পেছনে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বৃদ্ধির ভূমিকা রয়েছে।