পাহাড় কাটার অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ নৌ উপদেষ্টার
খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর সংশ্লিষ্ট এলাকায় পরিবেশ সংরক্ষণে নজরদারি জোরদার এবং পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত ভারতের জন্য বন্দর নির্মাণে পাহাড় কেটে জমি ভরাট সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
গত ৭ জানুয়ারি দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় স্থলবন্দরের জমিভরাট কার্যক্রমে পরিবেশ ধ্বংস করে নির্বিচারে পাহাড় কাটার অভিযোগ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর নৌপরিবহন উপদেষ্টা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের লক্ষ্যে তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা, স্থানীয় জনগণের সাক্ষাৎকার, প্রকৌশলগত মান যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রামগড় স্থলবন্দরের সাইট ডেভেলপমেন্ট ও বালু ভরাটের কাজ ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়ে এপ্রিল মাসে সম্পন্ন হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৩২ দশমিক ২৮১ ঘনমিটার বালু ভরাটের বিপরীতে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫০৯ দশমিক ২৪৪ ঘনমিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২০ দশমিক ১৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট প্রায় ৪৮ লাখ টাকার বিল প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার সময়কাল বিবেচনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত সংবাদ ও আলোকচিত্র স্থলবন্দরের জমিভরাট কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত নয়। বালুর গুণগত মান পরীক্ষায় চুক্তিতে নির্ধারিত এফএম ০.৮০ এর পরিবর্তে পরীক্ষায় এফএম ১.৬২ এবং সরেজমিন প্রতিবেদনে ১.৮৪ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও নিরপেক্ষ ও বিশেষজ্ঞ মতামতের জন্য বুয়েট বা সমমানের স্বীকৃত ল্যাবরেটরিতে পুনরায় পরীক্ষা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
অবকাঠামোগত পরিদর্শনে কোথাও বড় ধরনের বসে যাওয়া বা কাঠামোগত ত্রুটি পাওয়া যায়নি। তবে কিছু অংশে প্লাস্টারে কিউরিং ঘাটতির কারণে ত্রুটি লক্ষ্য করা গেছে, যা সামান্য মেরামতের মাধ্যমে সংশোধনযোগ্য বলে মত দিয়েছে কমিটি।
পরিবেশগত দিক বিবেচনায় তদন্ত কমিটি জানায়, রামগড় এলাকায় অতীতে অবৈধ পাহাড় কাটার অভিযোগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক পাহাড় কাটার অভিযোগগুলো স্থলবন্দরের প্রকল্প কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা পুনরায় স্পষ্ট করে বলেন, পরিবেশ ধ্বংস, অবৈধ পাহাড় কাটা বা সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী পরিবেশ সংরক্ষণে নিয়মিত নজরদারি, অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং রামগড় স্থলবন্দরের অবকাঠামোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।