কিনব্রিজ ও চাঁদনীঘাট এলাকাকে ছিলটি ঐতিহ্য চত্বর ঘোষণার দাবি
সিলেট নগরের ঐতিহাসিক কিনব্রিজ, চাঁদনীঘাট, আলী আমজদের ঘড়ি ও সারদা হল ঘিরে গড়ে ওঠা এলাকাকে ছিলটি ঐতিহ্য চত্বর হিসেবে নামকরণের দাবি জানিয়েছে হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ।
বৃহস্পতিবার ১১ জুন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে সংগঠনটি এ দাবি জানায়। একই সঙ্গে এলাকার নিরাপত্তা জোরদার এবং সমন্বিত সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সুরমা নদীর ওপর নির্মিত শতবর্ষী কিনব্রিজ, হযরত শাহজালাল রহ. এর স্মৃতিবিজড়িত চাঁদনীঘাট, পৃথিমপাশার জমিদার আলী আমজদের ঐতিহাসিক ঘড়ি এবং সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র সারদা হল সিলেটের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন দেশ ও বিদেশ থেকে আগত অসংখ্য দর্শনার্থী এসব স্থাপনা দেখতে আসেন।
তবে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, মাদকসেবন, অসামাজিক তৎপরতা এবং জননিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি সার্কিট হাউস সংলগ্ন সড়কে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের অবৈধ অবস্থান এবং চালকদের বেপরোয়া চলাচলের কারণে পথচারী ও দর্শনার্থীদের ভোগান্তি বাড়ছে বলেও স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়। সাম্প্রতিক একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে এলাকাটিকে ছিলটি ঐতিহ্য চত্বর ঘোষণা করার পাশাপাশি চার দফা প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবগুলো হলো, এলাকা থেকে ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য ভারী যানবাহন স্থায়ীভাবে অপসারণ, সারদা হল প্রাঙ্গণ থেকে পার্কিং করা যানবাহন সরিয়ে নেওয়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন এবং সরকারি উদ্যোগে সমন্বিত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়ন।
স্মারকলিপি গ্রহণ শেষে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, কিনব্রিজ, আলী আমজদের ঘড়ি, চাঁদনীঘাট ও সারদা হল সিলেটের গৌরব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। এসব স্থাপনার সংরক্ষণ এবং এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, নাগরিক সমাজ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী এলাকাগুলোকে আরও নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি ড. জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী, সিনিয়র সহসভাপতি আসাদুজ্জামান নূর, সহসভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক এম এ হান্নান, শাহ মো. আলী রব, আহমেদুর রহমান ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক মো. সোলেমান হোসেন চুন্নু, সহসাধারণ সম্পাদক সেলিম মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক মিয়া, আলাউদ্দিন হোসেন শাহ, সদস্য জুবের আহমদ সার্জন, সেবুল রেজা, সাংবাদিক এম এ ওয়াহিদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।