তুরস্ককে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দিলেন ইসরাইলি সংসদ সদস্য, বাড়ছে কূটনৈতিক উত্তেজনা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে তুরস্ক ও ইসরাইলের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইসরাইলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির সংসদ সদস্য আরিয়েল কেলনার প্রকাশ্যে তুরস্ককে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ১০ জুন, ইসরাইলি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেলনার দাবি করেন, তুরস্কের বর্তমান নেতৃত্ব ইসরাইলের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে স্বৈরশাসক বলে অভিহিত করেন এবং অভিযোগ করেন, তার রাজনৈতিক অবস্থান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ।
কেলনারের বক্তব্যে আরও উঠে আসে, পশ্চিমা দেশগুলোরও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তার মতে, এরদোয়ানের নীতিগত অবস্থান এবং ইসরাইলবিরোধী বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরাইলের হামলা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা তুরস্কের নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। তার ভাষায়, ইসরাইলকে থামানো মানবতার দায়িত্ব।
এরদোয়ানের এই মন্তব্যের জবাবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাকে ইহুদিবিদ্বেষী স্বৈরশাসক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ফলে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বাকযুদ্ধ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এরদোয়ান তার ভালো বন্ধু এবং অতীতে তারা একসঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করেছেন।
গাজা, ইরান ও লেবানন ইস্যুতে ইসরাইলের নীতির অন্যতম সমালোচক হিসেবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্ক আন্তর্জাতিক পরিসরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০২৪ সালের মে মাসে আঙ্কারা ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধের ঘোষণা দেয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গণহত্যা মামলায়ও তুরস্ক অংশ নেয়।
যদিও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে তুরস্ক থেকে ইসরাইলে কিছু পণ্য রপ্তানি অব্যাহত আছে। পাশাপাশি বাকু তিবলিসি জেইহান পাইপলাইনের মাধ্যমে আজারবাইজানের তেল তুরস্কের বন্দর হয়ে ইসরাইলে পৌঁছাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধ, সিরিয়ার ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ইসরাইলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহারও তুরস্ককে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান।
তিনি সতর্ক করে বলেন, তুরস্ক যদি ইসরাইলের বিরুদ্ধে সংঘাতের পথ বেছে নেয়, তাহলে এর পরিণতি গুরুতর হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইসরাইল নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো হুমকির জবাব দিতে সক্ষম।