ইরানের সঙ্গে চুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র, হামলার পরিকল্পনা স্থগিতের দাবি ট্রাম্পের
যুক্তরাজ্য ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যেও সম্ভাব্য একটি সমঝোতা চুক্তি ঘিরে নতুন আশার বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনুমোদন পাওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১২ জুন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পর্যায়ে আলোচনা অনুমোদিত হয়েছে এবং সম্ভাব্য চুক্তির চূড়ান্ত বিষয়গুলোও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতি পেয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ওই সন্ধ্যায় নির্ধারিত হামলার পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার বিভিন্ন ধাপ এবং চূড়ান্ত বিষয়বস্তু অনুমোদন দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান ও মিসর।
তবে সম্ভাব্য সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরানকে ঘিরে আরোপিত নৌ অবরোধ বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ও স্থান শিগগিরই ঘোষণা করা হবে বলে উল্লেখ করেন।
যদিও ইরানের সঙ্গে সমঝোতা খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সেসব উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বাস্তব রূপ পায়নি। ফলে সাম্প্রতিক ঘোষণাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন অবগত ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান সম্ভাব্য চুক্তির সর্বশেষ খসড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়েছে। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েকদিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটলেও মার্কিন কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।