কালো টাকা বৈধ করার উদ্যোগ থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি টিআইবির আহ্বান
কালো টাকা বৈধ করার সম্ভাব্য উদ্যোগ এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরাতে নিঃশর্ত দায়মুক্তি দেওয়ার আলোচনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। সংস্থাটি মনে করে, এ ধরনের পদক্ষেপ দুর্নীতি ও অনিয়মকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করবে।
বৃহস্পতিবার ১২ জুন, বাজেট পরবর্তী এক বিবৃতিতে টিআইবি সরকারকে কালো টাকা বৈধ করার পরিকল্পনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানায়। সংস্থাটি বলেছে, আবাসন খাতের স্থবিরতা দূর করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার যুক্তিতে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে সরকারগুলো অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ দিয়েছে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ ধরনের উদ্যোগ কর আদায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আনতে পারেনি। বরং কর ফাঁকির প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নিয়মিত করদাতাদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা গেছে।
তার মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে কালো টাকা বৈধ করার বিধান ধাপে ধাপে বন্ধ করা হলেও বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে তা পুনর্বিবেচনার আলোচনা সংস্কার প্রচেষ্টার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারের জন্য এমন উদ্যোগ বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
টিআইবি আরও উল্লেখ করেছে, জাতীয় জুলাই সনদ ২০২৫ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অনুপার্জিত আয় ভোগের সুযোগ বন্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সংস্কার প্রস্তাবেও কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সংস্থাটির দাবি, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী আসন্ন বাজেটে এমন একটি ব্যবস্থা রাখার আলোচনা রয়েছে, যেখানে দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থা অপ্রদর্শিত অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবে না। টিআইবির মতে, এমন ব্যবস্থা জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিদেশে নেওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়ে টিআইবি বলেছে, সরকার যদি বৈধভাবে অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়, তবে সেটি স্বাগতযোগ্য হতে পারে। তবে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যেন কোনো ধরনের দায়মুক্তির সুযোগ না পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, অর্থ পাচারের অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই তাদের জন্য সাধারণ ক্ষমার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
টিআইবির মতে, অতীতেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। ফলে কালো টাকা বৈধকরণ বা নিঃশর্ত দায়মুক্তির পরিবর্তে দুর্নীতি প্রতিরোধ, কর ব্যবস্থার সংস্কার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দিকেই সরকারের গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।