বাস্তবতা বিবর্জিত ও ঋণনির্ভর বাজেটের অভিযোগ নাহিদ ইসলামের
প্রস্তাবিত ২০২৬ থেকে ২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে উচ্চাভিলাষী, বাস্তবতা বিবর্জিত এবং ঋণনির্ভর বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্ধারিত রাজস্ব আদায় সম্ভব না হলে সরকারের ঋণনির্ভরতা আরও বাড়বে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ব্যাংকিং খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
বৃহস্পতিবার ১২ জুন, জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর সংসদ প্রাঙ্গণে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ ইসলাম বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ের বিপরীতে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বর্তমান প্রশাসনিক সক্ষমতা ও কর কাঠামোর বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তার মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। নির্ধারিত রাজস্ব সংগ্রহ না হলে এ ঘাটতি আরও বাড়বে এবং সরকারকে দেশীয় ব্যাংক ও বৈদেশিক উৎস থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট উপস্থাপনের কথা বললেও এটি একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার ভাষায়, অতিরিক্ত সরকারি ঋণ গ্রহণ দুর্বল ব্যাংকিং খাতের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে এবং বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রাপ্তি কঠিন হয়ে উঠবে। এর ফলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বাজেট বক্তৃতায় ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, অর্থনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাজেট আলোচনায় যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক প্রভাব ও বিতর্কিত নিয়োগের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এতে আমানতকারীদের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তবে বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পাওয়াকে স্বাগত জানান। তার মতে, এসব খাতে বাড়তি বরাদ্দ সাধারণ মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্যের ওপর কর কমানোর প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করলেও এর সুফল ভোক্তারা বাস্তবে পাবেন কি না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, কর হ্রাসের সুবিধা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাজারে পণ্যের দাম কিছুটা কমতে পারে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হতে পারেন।