ফরেনসিক প্রতিবেদনে মিলল ধর্ষণের প্রমাণ, রামিসা হত্যা মামলায় চার্জশিট প্রস্তুত
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। রোববার (২৪ মে) প্রকাশিত ফরেনসিক প্রতিবেদনে মৃত্যুর আগে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্যাতনের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বিকৃত করার ঘটনাও উঠে এসেছে তদন্তে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। একই সময়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি মামলার ডিএনএ প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনার জন্য আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে।
তদন্তে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকালে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে গিয়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান। সন্দেহ হলে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন স্বজনরা। এ সময় একটি কক্ষ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পাশের আরেকটি কক্ষে একটি বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায়।
গত বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই দিনে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত অপর অভিযুক্ত স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পর সোহেল রানা পালিয়ে যান। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
আলোচিত এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।