ম্যানচেস্টার ফ্লাইট ও সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দর ইস্যুতে সচিবালয়ে প্রবাসী প্রতিনিধিদের বৈঠক
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট চালু রাখা এবং সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার দাবিতে প্রবাসী প্রতিনিধিরা বৈঠক করেছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থানরত যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এবং জিএসসি এর সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মীর্জা আসহাব বেগ ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনের সঙ্গে পরপর সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে তারা জানান, ম্যানচেস্টার রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু রাখা এবং সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরকে প্রকৃত অর্থে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করার দাবি প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের। তারা বলেন, ম্যানচেস্টার ও আশপাশের শহরগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির বসবাস রয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই রুটের ফ্লাইটগুলোতে যাত্রীচাহিদা বেশি থাকে এবং প্রয়োজনে এয়ারক্রাফট চার্টার বা লিজ নিয়ে হলেও ফ্লাইট চালু রাখা জরুরি।
বৈঠকে সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টার পক্ষ থেকে ফ্লাইট পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও প্রতি মাসে দুই কোটি টাকার বেশি লোকসানের কথা উল্লেখ করা হয় বলে প্রতিনিধিরা জানান। এ বিষয়ে তারা বলেন, ফ্লাইট বন্ধ না করে দুর্নীতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাদের মতে, ফ্লাইট চালু রেখেই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা সম্ভব এবং ফ্লাইট বন্ধ রেখে তদন্ত পরিচালিত হলে অনেক প্রবাসী অকারণে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।
সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দর প্রসঙ্গে তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হলে প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে। প্রতিনিধিদের বক্তব্য অনুযায়ী, অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সকে অবতরণের সুযোগ দিলে সিলেট সম্ভাব্য পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আরও গুরুত্ব পেতে পারে এবং এতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের সেবা ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের বিষয়টিও তারা গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন।
তারা আরও বলেন, নিকট অতীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অল্প সময়ে একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সিলেট বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে এবং কুয়াশার কারণেও বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক মানের বড় বিমান সেখানে অবতরণে সক্ষম হয়েছে। তাদের মতে, সে কারণে নিয়মিতভাবে অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সকে অবতরণের অনুমতি না দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তারা দাবি করেন, অবকাঠামোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের সদিচ্ছা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে সাবেক পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা অধ্যাপক নূরুল ইসলাম এবং লন্ডনের সুরমা সম্পাদক সামছুল আলম লিটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।