দলীয় চাপে সংকটে কিয়ার স্টারমার, পদত্যাগের সময়সীমা চাইলেন ৬০ এমপি
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিজ দল লেবার পার্টির ভেতর থেকেই তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন। দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ক্রমেই প্রকাশ্য রূপ নেওয়ায় তাকে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তত ৬০ জন এমপি।
মঙ্গলবার ১২ মে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে। বিদ্রোহী এমপিদের দাবি, আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলকে সফলভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো রাজনৈতিক আস্থা তিনি তৈরি করতে পারেননি।
দলীয় এই চাপের মধ্যেই সোমবার সকালে এক বক্তব্যে কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করে জানান, তিনি পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা করছেন না। সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে লেবার পার্টিকে শক্ত অবস্থানে রাখতে তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং নেতৃত্ব ছাড়বেন না।
স্টারমার আরও বলেন, দেশ বর্তমানে রিফর্ম ইউকের মতো শক্ত প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ অবস্থায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিতর্কে না গিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা প্রয়োজন।
তবে তার এই অবস্থান বিদ্রোহ থামাতে পারেনি। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের এমপিরা প্রকাশ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জানাতে শুরু করেছেন। লেবার গ্রোথ গ্রুপের কো চেয়ার ক্রিস কার্টিস বলেন, বর্তমান নেতৃত্ব দেশের প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনতে পারছে না এবং এখন নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সময় এসেছে।
বিদ্রোহী শিবিরে লেবার পার্টির প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার সমর্থকরাও যুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে হতাশাজনক ফলাফল এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কমে যাওয়াই বর্তমান সংকটের বড় কারণ।
বার্মিংহাম এর্ডিংটনের এমপি পলেট হ্যামিল্টন বলেন, ভোটারদের একটি বড় অংশ জাতীয় ইস্যু ও দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এ পরিস্থিতি লেবার পার্টির জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করছে।
সংকটের প্রভাব পড়েছে মন্ত্রিসভাতেও। সোমবার বিকেলে জুনিয়র ফ্রন্টবেঞ্চের তিন কর্মকর্তা পদত্যাগ করে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালে নির্বাচিত নতুন এমপিদের মধ্যেও এ বিষয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।
তবে দলের আরেকটি অংশ এখনই নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময়ে প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে এবং এর সুযোগ নিতে পারে বিরোধী দলগুলো।
ওয়েলউইন হ্যাটফিল্ডের এমপি অ্যান্ড্রু লুইন সতর্ক করে বলেন, তাড়াহুড়া করে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলে তা দল ও সরকারের ভাবমূর্তির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।
সব মিলিয়ে কিয়ার স্টারমার বর্তমানে তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন সময় পার করছেন। এখন নজর রয়েছে, তিনি দলীয় বিদ্রোহ সামাল দিতে পারেন কিনা, নাকি শেষ পর্যন্ত নেতৃত্ব হস্তান্তরের পথে হাঁটেন।