নির্বাচনি হলফনামায় সম্পদের হিসাব দিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জমা দেওয়া হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর আয়-ব্যয় এবং সম্পদের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, তার ঘোষিত মোট সম্পদের বড় অংশই নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন খাত থেকে আসা বার্ষিক আয়ের হিসাবও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে নগদ রয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ১১৬ টাকা ৭৭ পয়সা। বিভিন্ন ব্যাংকে তার জমা রয়েছে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৫২ টাকা ৪৬ পয়সা। এছাড়া তার নামে রয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টাকার শেয়ার, ২ লাখ ৯০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র, একটি গাড়ি এবং ১০ ভরি স্বর্ণ।
আয়ের বিবরণে দেখা যায়, বছরে তার মোট আয় ১১ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে আয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে ১ লাখ ৯৭ হাজার ২৩২ টাকা, ইজাব গ্রুপের পরামর্শক হিসেবে ৬ লাখ টাকা, দি মিজার্স প্রাইভেট লিমিটেডে চাকরি করে ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা এবং ব্যাংক মুনাফা থেকে ৭ হাজার ৯০১ টাকা আয় করেন তিনি।
স্থাবর সম্পদের হিসাবে তার নামে রয়েছে ৫ একর কৃষি জমি। ঠাকুরগাঁয়ের পৈতৃক বাড়ির একটি অংশ তার ও স্ত্রীর নামে রয়েছে। এছাড়া এলাকায় ১২ শতাংশ জমি, পূর্বাঞ্চলে একটি প্লট এবং নিজের নামে চার শতাংশ জমির ওপর একটি মার্কেটের শেয়ার রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। তার নামে কোনো ঋণ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের হাতে নগদ রয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৩০ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। তার নামে রয়েছে ৩৪ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৫ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ৪৫ লাখ ১১ হাজার ৭৫০ টাকার মেয়াদী আমানত। এছাড়া ২৬ লাখ টাকার একটি গাড়ি, ২০ ভরি স্বর্ণ এবং ২ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্র রয়েছে। জমির হিসাবে তার নামে রয়েছে ৭০ শতাংশ ও ২.১৪ একর কৃষি জমি এবং গুলশান-২ এলাকায় একটি বাসা।
আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮৩ টাকা। তিনি বছরে ৭২ হাজার ৮৮৯ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন। তার স্ত্রীর নামে ঘোষিত সম্পদের মূল্য ২ কোটি ৪৩ লাখ ৯২ হাজার ৬৯৯ টাকা এবং তিনি আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৫৮৫ টাকা।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা স্থগিত অবস্থায় রয়েছে এবং অতীতে ৫৬টি মামলায় তিনি অব্যাহতি বা খালাস পেয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল গ্রহণ ও নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।