কৃষকবান্ধব নীতিতে এগোচ্ছে সরকার, সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা
দেশের কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা কৃষির সঙ্গে জড়িত হওয়ায় এই খাতকে শক্তিশালী করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শনিবার (২ মে) তিনি এসব কথা বলেন, যেখানে বাসিয়া নদীর পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সারাদেশে খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বাসিয়া নদীর পুনঃখনন শেষ হলে এলাকার কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে সরাসরি প্রায় ৮০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন এবং পরোক্ষভাবে দেড় লাখের বেশি মানুষ সুবিধা পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই উদ্যোগের ফলে বছরে অতিরিক্ত সাত হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি নদীর দুই তীরে বিপুলসংখ্যক গাছ রোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি, যা পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে।
কৃষকদের সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে সার, বীজ, কীটনাশক এবং কৃষি ঋণ সুবিধা পাবেন। এছাড়া ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য ভাতা চালুর বিষয়টিও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে শিল্প খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের বন্ধ কারখানা চালু এবং নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান।
তিনি বলেন, নতুন নতুন শ্রমবাজার তৈরির জন্য বিদেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে জনশক্তি রফতানি বাড়ে এবং দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী প্রতীকীভাবে মাটি কেটে বাসিয়া নদীর পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।