রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবি নাহিদ ইসলামের, সংসদে তীব্র বক্তব্য
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির বক্তব্য তিনি শোনেননি এবং সে বিষয়ে মন্তব্য করার আগ্রহ নেই। তবে রাষ্ট্রপতির কর্মকাণ্ড নিয়ে সংসদের সামনে কিছু বিষয় তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করে বলেন, এমন একজন ব্যক্তির দায়িত্বে থাকা দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক এবং তাকে অপসারণের পাশাপাশি গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির পদে বহাল রাখার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
দুদকের কমিশনার হিসেবে রাষ্ট্রপতির পূর্ববর্তী ভূমিকা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, কথিত এসব দায়িত্বের মধ্যে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কিছু রাজনৈতিক দলকে দায়মুক্তি দেওয়ার বিষয় ছিল।
সংবিধান প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানকে একাত্তরের আদর্শের সঙ্গে একীভূত করে দেখা ঠিক নয়। তার ভাষায়, সে সময়ের সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়া ছিল গণতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এতে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম নতুন সংবিধান প্রণয়ন অথবা পুনর্লিখনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর সংস্কার প্রক্রিয়ায় তাদের দল নতুন সংবিধানের প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে এ বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হয়নি।
জুলাই জাতীয় সনদ নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, এতে মতভেদের কারণে সনদের উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের ভিত্তি এবং এ বিষয়ে তাদের অবস্থান আপসহীন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানকে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক সংস্কার, সংবিধান কাঠামো এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।