তাপপ্রবাহের পর স্বস্তির বৃষ্টি, তবে বজ্রপাতে প্রাণহানি, বৃষ্টি বাড়ার আভাস
টানা তাপপ্রবাহের দমবন্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দেশে বৃষ্টি নেমে স্বস্তি ফিরলেও বজ্রপাত ও জলাবদ্ধতায় নতুন করে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
রোববার ২৬ এপ্রিল বিকাল থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি শুরু হয়, যা সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের ৫১টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ২১টিতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে সর্বোচ্চ ১৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সৈয়দপুরে ৭৮, তেতুলিয়ায় ৫৫, দিনাজপুরে ৫২, আরিচায় ৪৬, নারায়ণগঞ্জে ৪০ এবং রাজারহাটে ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।
বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রা কমে সাময়িক স্বস্তি নেমে এলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে অন্তত ১৪ জনের প্রাণহানি এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, কয়েকদিন ধরে চলমান তাপপ্রবাহের বিস্তৃতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এখন শুধু রাঙামাটি, বান্দরবান ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে সীমিত রয়েছে এবং তা দ্রুত প্রশমিত হতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে এবং তা মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃষ্টির প্রভাবে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমার আভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজধানীতে আকস্মিক বৃষ্টিতে জনজীবনে কিছুটা ভোগান্তিও দেখা দেয়। অফিস শেষে অনেককে রাস্তার পাশে আশ্রয় নিতে দেখা যায় এবং কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে অতীতের মতো দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা কম, কারণ মাঝেমধ্যে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। ফলে সামনের দিনগুলোতে গরম কিছুটা কমে স্বস্তি বজায় থাকতে পারে।