সংসদে নোটিশের সিরিয়াল নিয়ে ক্ষোভ, সমান সুযোগ নিশ্চিতের দাবি
জাতীয় সংসদে জরুরি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নোটিশ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সিরিয়াল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্য, যা সংসদে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
রোববার সংসদের কার্যক্রমে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে নোটিশ নিষ্পত্তি পর্বে অনির্ধারিতভাবে দাঁড়িয়ে মনিরুল হক চৌধুরী এই বিষয়ে নিজের অসন্তোষ তুলে ধরেন। তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী সিরিয়াল পেতে সকাল থেকেই উপস্থিত থাকতে হয়, তবুও অনেক সময় নির্ধারিত ক্রমে সুযোগ পাওয়া যায় না।
এ সময় তিনি নিজের সিরিয়াল সম্পর্কে জানতে চান এবং কেন তাকে ডাকা হয়নি সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। জবাবে ডেপুটি স্পিকার জানান, যেসব সদস্য প্রথমবার নোটিশ দেন তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যের সিরিয়াল নির্ধারিত রয়েছে, যথাসময়ে তাকে ডাকা হবে।
পরবর্তীতে তিনি উল্লেখ করেন, একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও সুযোগ পেতে বিলম্ব হচ্ছে, যা সদস্যদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, তবে সুযোগ বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম নতুন সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সংসদে বিপুল সংখ্যক নতুন সদস্য রয়েছেন, যারা তাদের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরতে আগ্রহী।
তিনি আরও প্রস্তাব করেন, নোটিশ জমা দেওয়ার ক্রম অনুযায়ী সুযোগ দেওয়া হলে সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ বাড়বে এবং সংসদের কার্যক্রম আরও প্রাণবন্ত হবে।
আলোচনার একপর্যায়ে সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার কার্যপ্রণালি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনার ওপর জোর দেন।
পরবর্তী আলোচনায় অংশ নিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং নিয়ম মেনেই নোটিশ প্রদান করে আসছেন।