আবু সাঈদকে ঘিরে ট্রাইব্যুনালের আবেগঘন পর্যবেক্ষণ, ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা
জুলাই গণআন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ এবং হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেছে, যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী রায় ঘোষণার শুরুতেই এক আবেগঘন পর্যবেক্ষণে বলেন, আবু সাঈদ নির্ভীকভাবে বুক পেতে দাঁড়িয়ে বিশ্বাস করেছিলেন সামনে থাকা ব্যক্তিরা মানুষ, কিন্তু পরিস্থিতি তার সেই বিশ্বাসকে ভেঙে দেয়।
দুপুরে রায় পাঠ শুরু করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে রায় ঘোষণা করা হয়।
রায় ঘোষণার সময় মামলার প্রধান ছয় আসামিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এএসআই আমির হোসেন, শরিফুল ইসলাম যিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রনেতা ইমরাস চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল এবং আনোয়ার পারভেজ।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ঘটে যাওয়া এ ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। দুই হাত প্রসারিত করে নিরস্ত্র অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের সেই দৃশ্য আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
এই রায়ের মাধ্যমে তার আত্মত্যাগের বিচারিক স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।