জ্বালানি সংকটে স্থবির সেচ ও পরিবহন, ভোগান্তিতে কৃষক ও শিল্পখাত
দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কৃষি, পরিবহন ও শিল্পখাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এতে জনজীবনে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে প্রতিদিনই দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং কাঙ্ক্ষিত তেল না পেয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
মঙ্গলবার ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ডিজেলের অভাবে কৃষকরা চরম সংকটে পড়েন। পাম্পে তেল আসার খবর পেয়ে ভোর থেকেই খালি পাত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে লাইনে দাঁড়ান তারা। অনেক ক্ষেত্রে নারীরাও পরিবারের পক্ষ থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ডিজেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না।
কৃষকদের অভিযোগ, সেচের জন্য ডিজেল না পেলে বোরো ধানের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দিনমজুর নির্ভর পরিবারগুলোও আয় হারানোর শঙ্কায় পড়েছে।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায়ও একই চিত্র দেখা গেছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক পাম্পে বিক্রি বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কোথাও তেল আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে যানবাহনের চালকদের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে, তবে সীমিত পরিমাণ তেলেই শেষ হয়ে যাচ্ছে সরবরাহ।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, সরবরাহ ঘাটতি এবং আমদানি জটিলতার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল ডিপো থেকে পাওয়া না যাওয়ায় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে শরীয়তপুরে জেলা প্রশাসন জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষক ও যানবাহনের জন্য পৃথক দুটি অ্যাপ চালুর মাধ্যমে নিবন্ধনের ভিত্তিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী তেল বিতরণ সহজ হচ্ছে এবং মজুতদারি রোধে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরবরাহ ও বণ্টনের তথ্য সরাসরি তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে, ফলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হচ্ছে।
অন্যদিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য বিশেষ উদ্যোগে ডিজেল সংগ্রহ করে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিতরণ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কার্ডের মাধ্যমে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষি উৎপাদন, শিল্পকারখানার কার্যক্রম এবং পরিবহন ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।