সোমবার , ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাম্প্রতিক
ইউনিয়ন পর্যায়ে মাসে ৫০০ টাকা ভ্যাটের পরিকল্পনা এনবিআরের ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমল স্বর্ণের দাম চাকরি হারালেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে বিদেশি কর্মীদের ৪১ দেশে সম্প্রসারিত হচ্ছে প্রবাসীদের এনআইডি সেবা গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে লংমার্চ নয়, কার্যকর পরিকল্পনা দরকার: প্রধানমন্ত্রী বাংলা কিউআরে সপ্তাহে লেনদেন ছাড়াল ৭০০ কোটি টাকা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী র‍্যাবের সঙ্গে এসআরবির কোনো সম্পর্ক নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেঙ্গু কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতে মাউশির নির্দেশ নবম পে-স্কেলের গেজেট ভেটিংয়ে, প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষা বিআরটিএর অনুমোদন ছাড়া স্লিপার বাস চলবে না: হাইকোর্ট ৪৮ ঘণ্টায় বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, পাঁচ দিন বৃষ্টির আভাস শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল: সিইসি জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ রাষ্ট্র কখনো শোধ করতে পারবে না: রাষ্ট্রপতি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন, সমীক্ষা ও নকশা শেষ বাঁধনের ওপর হামলা অমার্জনীয় ও নিন্দনীয়: ডেপুটি স্পিকার গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির প্রাথমিকের ১৪,৩৮৪ সহকারী শিক্ষকের যোগদান ১ অক্টোবর ইস্ট লন্ডন মসজিদের প্রেস ব্রিফিং: ১৩ ও ২৬ সেপ্টেম্বর পুরুষ ও নারীদের পৃথক চ্যারিটি রানে অংশগ্রহণের আহ্বান প্রতিবন্ধীদের বিনামূল্যে আইটি ও এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আপস্কিল বাংলাদেশ: রাসেল উল আলম ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকীতে লন্ডনে স্মরণসভা, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিসহ ৭ দাবি বদলেছে জমির নামজারির নিয়ম, ওয়ারিশদের জন্য নতুন নির্দেশনা বিশ্ববাজারে আবার কমল সোনার দাম মধ্যপ্রাচ্যের বড় শ্রমবাজার সংকুচিত, নতুন গন্তব্যে বাড়ছে প্রতারণা জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় নয়: শফিকুর রহমান
হোমজাতীয়নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারে সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব, তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ

নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারে সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব, তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ

icon
দর্পণ টিভি লন্ডন
নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারে সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব, তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মের সুযোগ যেন না থাকে, সে জন্য কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি এ কথা বলেন সোমবার ১২ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণের সময়।

বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশনের সদস্যরা প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। এ সময় তদন্তে উঠে আসা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের প্রধান সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন, সদস্য শামীম আল মামুন, কাজী মাহফুজুল হক সুপণ, ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসেন ও ড. মো. আব্দুল আলীম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অতীতের নির্বাচনগুলোর ক্ষেত্রে যে ধরনের অভিযোগ ও অনিয়মের তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে, সেগুলো রাষ্ট্র ও জাতির জন্য উদ্বেগজনক। এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ নথি সংরক্ষণ এবং জনগণের সামনে তথ্য উপস্থাপন করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করে আয়োজিত নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আস্থার ক্ষতি হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে। তাই সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর প্রকৃতি, পদ্ধতি ও দায় সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং বাকি ১৪৭টি আসনে সীমিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যা পূর্বপরিকল্পিত ব্যবস্থার অংশ ছিল বলে কমিশনের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সে সময় রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্ষমতাসীন দলকে ক্ষমতায় রাখার লক্ষ্যে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৪ সালের নির্বাচন আন্তর্জাতিক পরিসরে সমালোচিত হওয়ার পর ২০১৮ সালের নির্বাচনকে তুলনামূলকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হিসেবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কমিশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের আগেই ব্যালট পেপারে সিল মারা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও ভোট প্রদানের হার অস্বাভাবিকভাবে শতভাগের বেশি দেখানো হয়।

২০২৪ সালের নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধান বিরোধী দলসহ একাধিক দল অংশ না নেওয়ায় ডামি প্রার্থী দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ তৈরির চেষ্টা করা হয়।

কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তিনটি নির্বাচনের ক্ষেত্রেই পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশন এবং গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতা কার্যত নির্বাচন কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসনের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনের শেষাংশে নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে একাধিক সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়েছে।