৩০০ টাকার তেলের জন্য সড়কে রাত কাটাল শত শত মানুষ
দিনাজপুরের হিলি এলাকায় জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় অল্প পরিমাণ তেলের আশায় সড়কের ওপর রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন শত শত মোটরসাইকেল চালক।
সোমবার ৭ এপ্রিল সকালে তেল সরবরাহের কথা থাকায় আগের দিন রোববার রাত থেকেই হিলি ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ সারি গড়ে ওঠে, যেখানে বিভিন্ন পেশার মানুষ মোটরসাইকেল নিয়ে অবস্থান নেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে এক হাজারের বেশি মোটরসাইকেল সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রতিটি মোটরসাইকেলের জন্য নির্ধারিত ছিল সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার তেল। এই সামান্য তেল পেতে অনেকেই সড়কের ওপর মাদুর পেতে রাত কাটান। কেউ কেউ নিজেদের খাবারের ব্যবস্থাও করেন, আবার অনেকে সারারাত মোটরসাইকেল পাহারা দিয়েছেন।
তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, মশার উপদ্রব এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে সবাইকে। তেল নিতে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ঘোড়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা এবং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জানান, নিয়মিত যাতায়াতের জন্য তিনি চরম সমস্যায় পড়েছেন। তেল না থাকায় আগের কয়েক দিন কর্মস্থলে যেতে বিঘ্ন ঘটে। অবশেষে রাতভর অপেক্ষা করে তিনি সামান্য তেল সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনায় কিছু অসংগতি থাকায় অনেকে লাইনে পিছনে থেকেও আগে তেল পাচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, সীমিত সরবরাহের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না বাড়লে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, সংশ্লিষ্ট স্টেশনের জন্য তিন হাজার লিটার তেল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, চলতি সপ্তাহেই আবারও তেল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এ সংকট জনজীবনে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।