গণভোটসহ ১৬ অধ্যাদেশ আপাতত অনুমোদন পাচ্ছে না, সংসদে নতুন করে আনার সুপারিশ
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ আপাতত সংসদে অনুমোদন পাচ্ছে না, বরং সেগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করে আরও শক্তিশালী আকারে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়, মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার পর ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উপস্থাপন না করে পরবর্তীতে সংশোধন ও পর্যালোচনা শেষে নতুনভাবে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল সংসদে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলে এতে উল্লেখ করা হয়, গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ এই তালিকায় রয়েছে।
একই সঙ্গে আরও ৪টি অধ্যাদেশ সম্পূর্ণভাবে বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট কিছু অধ্যাদেশও রয়েছে। ফলে মোট ২০টি অধ্যাদেশ চলতি অধিবেশনে অনুমোদন পাচ্ছে না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাস না হলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
সংবিধান অনুযায়ী সংসদে উত্থাপনের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পেলে এসব অধ্যাদেশের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়।
অন্যদিকে ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত অবস্থায় বিল আকারে সংসদে পাসের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন সাপেক্ষে সংসদে উপস্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনটি উপস্থাপনের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়, যাতে সুপারিশ অনুযায়ী আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যায়।
তবে কিছু অধ্যাদেশের বিষয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ভিন্নমত তুলে ধরা হয়েছে, যা সংসদীয় আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে এনে টেকসই আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পথ তৈরি হচ্ছে।