টিকা কেনায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, প্রস্তুতির ঘাটতিতেই তৈরি হয় সংকট
দেশে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে সাম্প্রতিক সংকটের পেছনে অতীতের নীতিগত পরিবর্তনকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা, যা এখন জনস্বাস্থ্য খাতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে টিকা ঘাটতি ও হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল পরিস্থিতি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তই এই সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সহায়তার মাধ্যমে ইউনিসেফের সহযোগিতায় টিকা সংগ্রহ করে আসছিল, যা ছিল তুলনামূলকভাবে সহজ ও সময়সাশ্রয়ী একটি পদ্ধতি। এই ব্যবস্থার অধীনেই সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছিল।
তবে দাতানির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারের সময় থেকেই ধীরে ধীরে এই কাঠামো থেকে সরে আসার পরিকল্পনা শুরু হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে সেই প্রক্রিয়াকে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় এবং সরাসরি টিকা কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
কিন্তু এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না থাকায় জটিলতা তৈরি হয়। ইউনিসেফকে বাদ দিয়ে টিকা কেনার উদ্যোগ নেওয়ার পর অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়। পরে আবার ইউনিসেফকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হলেও ততদিনে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়।
এই প্রক্রিয়াগত বিলম্ব, অর্থ ছাড় ও প্রশাসনিক জটিলতায় প্রায় ছয় মাস টিকা সংগ্রহ কার্যত বন্ধ থাকে। এর ফলে ২০২৫ সালের শেষ দিকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়া ব্যাহত হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনাহীন ও দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কারণে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে এবং এর প্রভাব এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। একই সঙ্গে ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা ও এইডসসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মসূচির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে আক্রান্তদের বড় একটি অংশ শিশু। ইতোমধ্যে শতাধিক নয়, বরং পাঁচ শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে তিন ডজনের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যদিও এসব মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি হাম রোগের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য খাতে আরও বড় সংকট দেখা দিতে পারে।