নৌকাডুবি নয়, সাগরে ভেসে অনাহারেই মৃত্যু ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর
লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকা একটি নৌকায় অন্তত ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে, যেখানে অনাহার ও তীব্র পানির সংকটকেই প্রধান কারণ হিসেবে জানিয়েছেন স্বজনরা।
শনিবার রাত ১১টার দিকে স্বজনদের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, নৌকাডুবির কোনো ঘটনা ঘটেনি, বরং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নৌকাটি মাঝ সাগরে থেমে গিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ভাসমান ছিল।
এই দীর্ঘ সময় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। একপর্যায়ে অনাহার ও তীব্র পিপাসায় একে একে বহু যাত্রীর মৃত্যু হয়।
নিখোঁজদের স্বজনরা জানান, একই সময়ে আরেকটি নৌকা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছালেও দুর্ঘটনাগ্রস্ত নৌকাটি মাঝ সাগরে বিকল হয়ে পড়ে। সেখান থেকেই বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের মাধ্যমে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া যায়।
শুক্রবার ভোরে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি রয়েছেন।
উদ্ধারকৃতদের তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের অনেকের মরদেহ সাগরেই ফেলে দেওয়া হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার একাধিক বাসিন্দার পরিচয় পাওয়া গেছে, যার মধ্যে দিরাই, দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুর উপজেলার কয়েকজন রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি এবং দালালচক্রের প্রতারণা আবারও সামনে এসেছে, যা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।