ভূমধ্যসাগরে ভাসমান নৌকায় অনাহারে ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু
লিবিয়া থেকে অবৈধ পথে ইউরোপগামী নৌযাত্রায় সাগরে ভেসে থাকতে গিয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের অন্তত ১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা স্থানীয় এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
শনিবার ২৮ মার্চ সন্ধ্যার পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোক ও উদ্বেগ, প্রশাসনও বিষয়টি যাচাইয়ে উদ্যোগ নেয়।
জানা যায়, গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাবারের একটি ছোট নৌকায় করে যাত্রা শুরু করেন ৪৩ জন। দালালের মাধ্যমে বড় নৌকার আশ্বাস দেওয়া হলেও তাদের ছোট নৌকায় তোলা হয়। নৌকাটি পথ হারিয়ে টানা কয়েকদিন সাগরে ভাসতে থাকে।
খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়ে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। একপর্যায়ে অনাহার ও পানির অভাবে ১৮ জন মারা যান। পরে নৌকায় থাকা বাকি যাত্রীরা পরিস্থিতির কারণে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন বলে জানা গেছে।
মৃতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
বেঁচে ফেরা একাধিক যাত্রীর বর্ণনায় জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে নৌকাটি দিকভ্রান্ত অবস্থায় ছিল। খাবার শেষ হয়ে গেলে অনেকে বাধ্য হয়ে সাগরের পানি পান করেন, যা তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্বজনদের দাবি, প্রতিজন প্রায় ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে দালালের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন। বিভিন্ন দেশ হয়ে তাদের লিবিয়ায় নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে সাগরপথে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় দালালচক্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিবিয়াভিত্তিক এক দালালের মাধ্যমে এ যাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক চৌধুরী বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রশাসন তথ্য যাচাই করছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে খবরটি জানা গেছে, তবে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি এবং দালালচক্রের প্রতারণা আবারও সামনে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।