ইরান যুদ্ধ থেকে বের হতে দ্বিমুখী কৌশলে ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তবে তার কৌশল নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে তিনি একদিকে যুদ্ধ কমাতে চান, অন্যদিকে চাপ বাড়িয়ে দ্রুত সমাধানেও আগ্রহী।
মঙ্গলবার দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, সংঘাত ধীরে ধীরে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি এমন পদক্ষেপও নিচ্ছেন, যা যুদ্ধের মাত্রা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করছে। ফলে তার অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার ২৭ মার্চ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একদিকে পেন্টাগন উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থল সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের কাছে ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব তুলে ধরেছে। হোয়াইট হাউস থেকেও ইরানকে এই প্রস্তাব গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে, পাশাপাশি তা প্রত্যাখ্যান করলে কঠোর হামলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
এ ধরনের দ্বৈত অবস্থান প্রশাসনের ভেতরেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, সংঘাতের পরবর্তী ধাপ নিয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই বলে আশঙ্কা করছেন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেকেই।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এবং প্রয়োজন হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে ইরান ইতোমধ্যে শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার সমন্বয়ে যে কৌশল নেওয়া হচ্ছে, তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রভাব ফেলছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সংঘাতের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইরানের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।