গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা, রিপোর্ট কার্ডে যুক্ত হচ্ছে নম্বর
পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের শিক্ষার্থীদের সরাসরি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় গাছ লাগানো ও পরিচর্যার ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে, যা তাদের শিক্ষাজীবনের আনুষ্ঠানিক ফলাফলেও প্রতিফলিত হবে।
শুক্রবার ২৭ মার্চ জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায় স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য বৃক্ষরোপণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা সরকার প্রদত্ত চারা রোপণ করবে এবং নিয়মিত পরিচর্যা করবে, যার অগ্রগতি শিক্ষকেরা পর্যবেক্ষণ করবেন।
বার্ষিক পরীক্ষার রিপোর্ট কার্ডে পরিবেশ বিষয়ক মূল্যায়নের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এই কার্যক্রম। যে শিক্ষার্থী তার রোপণ করা গাছ সঠিকভাবে বড় করতে পারবে, সে তুলনামূলক বেশি নম্বর পাবে।
এই উদ্যোগটি একটি শিশু একটি গাছ কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তা চূড়ান্ত করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা নিজ বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ এবং আশপাশের খালি জায়গায় গাছ লাগাতে পারবে। পুরো প্রক্রিয়াটি শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী তার রোপণ করা গাছের দায়িত্ব নেবে।
এছাড়া স্থানীয় বন বিভাগ ও কৃষি অফিসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চারা সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনকে সম্পৃক্ত করে উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করা হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করবে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমেও প্রচারণা চালানো হবে।
এই কর্মসূচির লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে প্রতি বছর অন্তত এক কোটি গাছ রোপণ ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা। এর ফলে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।