সম্ভাব্য যুদ্ধ ঘিরে ইরানের বিশাল প্রস্তুতি, বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট নতুন মাত্রা পেয়েছে ইরানের ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতির খবরে। সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় দেশটি বিপুলসংখ্যক যোদ্ধাকে প্রস্তুত রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে।
শুক্রবার ২৭ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য স্থল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান ১০ লাখের বেশি যোদ্ধাকে প্রস্তুত করেছে। ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী, বাসিজ এবং নিয়মিত সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে এই বাহিনী সংগঠিত করা হয়েছে।
দেশজুড়ে নিয়োগ কেন্দ্রগুলোতে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই বাহিনী প্রস্তুত এবং দেশের প্রতিরক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশটির ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সদস্যরা মোতায়েনের প্রস্তুতিতে রয়েছে এবং তারা ইতোমধ্যে অবস্থানরত বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হবে বলে জানা গেছে।
কূটনৈতিক অঙ্গনে দুই দেশের অবস্থান এখনো কঠোর। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার অগ্রগতির কথা বলা হলেও ইরান প্রকাশ্যে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করেছে, তাদের ভূখণ্ডে বিদেশি সেনা প্রবেশ করলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে সমুদ্রপথে উত্তেজনা বাড়িয়েছে হরমুজ প্রণালীতে আরোপিত নিয়ন্ত্রণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহভাজন জাহাজগুলোকে আটকে দেওয়া হলেও নিরপেক্ষ জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে সীমিত চলাচলের সুযোগ রাখা হয়েছে।
চলমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ও অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংঘাতের শুরুতেই বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে, যা সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করছে।
এদিকে পরোক্ষভাবে কূটনৈতিক যোগাযোগও চালু রয়েছে। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান প্রদান চললেও প্রকাশ্যে উভয় পক্ষই কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক প্রস্তুতি ও সীমিত কূটনৈতিক যোগাযোগ একসঙ্গে চলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় যেকোনো সময় উত্তেজনা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।