ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনে পর্যটকের ঢল, প্রাণ ফিরে পেল মোংলার পর্যটন খাত
ঈদুল ফিতরের ছুটি ঘিরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র সুন্দরবন ও মোংলায় পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে স্থানীয় পর্যটন খাতে।
রবিবার ২২ মার্চ ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকেই মোংলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বিশেষ করে শিশু পার্ক ও মেরিন ড্রাইভ এলাকায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের উপস্থিতিতে মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
রমজানজুড়ে পর্যটকশূন্য থাকা এলাকাগুলোতে এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্টের কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২২ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকের চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন বিনোদন ও সেবামূলক আয়োজন জোরদার করেছেন।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পরিবারসহ সুন্দরবনে বেড়াতে আসা পর্যটকরা প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সময় কাটাচ্ছেন। নদী, বনভূমি ও বন্যপ্রাণীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই পরিবেশ তাদের জন্য এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করছে।
ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক জানান, ঈদের ছুটিকে ঘিরে সুন্দরবনে আসা তার জন্য আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা হয়েছে। তিনি বলেন, এখানকার পরিবেশ মনোমুগ্ধকর এবং পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এটি উপযুক্ত স্থান।
ঈদের এই ভিড়ে দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরে এসেছে। রমজানে ক্ষতির মুখে থাকা ব্যবসায়ীরা এখন নতুন আশায় কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান, ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটছে, যা পর্যটন খাতের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, পর্যটকদের ধারাবাহিক আগমন অব্যাহত থাকলে এ খাতে রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।