তেল অবরোধে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে অচল কিউবা, দখলের ইঙ্গিত ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধের প্রভাবে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়েছে কিউবা, যার ফলে দেশজুড়ে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার ১৭ মার্চ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে কিউবাকে মুক্ত করা বা দখলে নেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে সক্ষম। তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কিউবা দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে প্রায় ৯৬ লাখ মানুষের দেশটিতে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, পুরোনো বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও জ্বালানি ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অনেক এলাকায় দিনে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না, ফলে পরিবহন ও পর্যটন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে কিউবার জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে জানুয়ারির শুরু থেকে তেল আমদানি কার্যত বন্ধ রয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিউবা সরকার অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তন এনে প্রবাসীদের বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ দিচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশটিতে চলমান বিদ্যুৎ সংকট, খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতির কারণে জনঅসন্তোষ বাড়ছে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে, যার মধ্যে একটি ঘটনায় দলীয় কার্যালয়ে হামলার পর কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
কিউবার প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, জনগণের কষ্ট তিনি অনুধাবন করেন, তবে সহিংসতা কোনো সমাধান নয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার পেট্রোল রেশনিং করেছে এবং কিছু স্বাস্থ্যসেবা সীমিত রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশটির অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।