আরএসএস ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন কমিশনের
ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে দেশটির কট্টরপন্থি সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ আরএসএস এবং গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং র এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক কমিশন ইউএসসিআইআরএফ।
কমিশনের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি গত বছর উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশটিকে কান্ট্রি অব পার্টিকুলার কনসার্ন হিসেবে ঘোষণা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এই তালিকায় সাধারণত সেইসব দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত, চলমান এবং গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
ইউএসসিআইআরএফ হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বাধীন ও দ্বিদলীয় ফেডারেল সংস্থা। ১৯৯৮ সালের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় স্বাধীনতার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কংগ্রেসকে নীতিগত সুপারিশ প্রদান করে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তাদের উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে নতুন আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মান্তরবিরোধী আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এসব আইনে কারাদণ্ডের বিধান বাড়ানো হয়েছে।
এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ নাগরিক ও ধর্মীয় শরণার্থীদের ব্যাপক আটক এবং বহিষ্কারের ঘটনায় জড়িত ছিল। একই সঙ্গে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে কয়েকটি ঘটনার উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে মহারাষ্ট্রে সপ্তদশ শতকের মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি অপসারণের দাবি ঘিরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আহ্বানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বহু মানুষ আহত হন।
জুন মাসে ওডিশায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতৃত্বাধীন অন্তত বিশটি বিক্ষোভে কোরআন অবমাননার অভিযোগ ওঠে এবং হামলায় কয়েকজন আহত হন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ দেখা যায়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মে মাসে চল্লিশজন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটক করে মিয়ানমারের উপকূলসংলগ্ন আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিয়ে গিয়ে লাইফ জ্যাকেট দিয়ে সাঁতরে তীরে যেতে বাধ্য করা হয়।
এছাড়া জুলাই মাসে আসামে শত শত বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও তাদের ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করা হয়েছিল।
সেপ্টেম্বর মাসে ফরেনার্স অ্যাক্ট এর নতুন বিধান অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালগুলোকে সন্দেহভাজন বিদেশিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ও আটক করার ক্ষমতা বাড়ানোর কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
ইউএসসিআইআরএফ তাদের সুপারিশে বলেছে, ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘনের কারণে ভারতকে কান্ট্রি অব পার্টিকুলার কনসার্ন হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কমিশনের মতে, এসব পদক্ষেপের মধ্যে আরএসএসের মতো সংগঠনের সম্পদ জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।