অন্তর্বর্তী সরকারে স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান ও বিচারিক সংস্কারের দাবি
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও স্বাধীনভাবে উপস্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তার মতে, আঞ্চলিক প্রভাবের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশ এখন নিজস্ব স্বার্থ ও অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারছে।
তিনি জানান, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনা থাকা স্বাভাবিক হলেও তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। কিছু অগ্রগতি স্বীকার করার পাশাপাশি সীমাবদ্ধতা নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনার গুরুত্ব রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ আয়োজিত রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক এক পলিসি ডায়ালগে এসব বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
বিচার বিভাগের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচার বিভাগে পদ সৃষ্টি, বদলি, পদোন্নতি এবং বাজেট সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো এখন উচ্চ আদালতের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের দীর্ঘ ইতিহাসে এটিকে একটি উল্লেখযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মানবাধিকার বিষয়ে তিনি জানান, গুম সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে, যা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় আরও বিস্তৃত ও কার্যকর কাঠামো প্রদান করে। শিগগিরই মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও অগ্রগতির কথা তুলে ধরে আইন উপদেষ্টা জানান, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং দুর্বল ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হয়রানিমূলক হিসেবে চিহ্নিত ২০ হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, যেখানে প্রায় পাঁচ লাখ আসামি জড়িত ছিলেন।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ রাষ্ট্র পরিচালনায় অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকর ভূমিকার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।