রাষ্ট্রপতির অভিশংসন ও বিচারের দাবি জানাল জুলাই ঐক্য
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করে পদ থেকে অপসারণ এবং তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জুলাই ঐক্য নামে একটি সংগঠন। একই সঙ্গে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিও তুলেছে।
শুক্রবার ১৩ মার্চ বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের সংগঠক ফাহিম ফারুকী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। সেই সময় সংঘটিত সহিংসতায় বহু ছাত্র ও সাধারণ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, ওই সময়ের সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বর্তমানে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে জনতার প্রত্যাশার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি একাধিকবার শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জুলাই ঐক্য সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছেন তা বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই বলেও দাবি করেন ফাহিম ফারুকী।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত বর্তমান সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দাবি করেন, রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান তৈরি হয়েছে।
জুলাই ঐক্যের নেতারা আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অগ্রসর হতে হবে।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটি সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদের আলোকে গুরুতর অসদাচরণ ও সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সংসদের মাধ্যমে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানায়। একই সঙ্গে তাকে বিচারের আওতায় আনার আহ্বানও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের সংগঠক কবি মুন্সি বুরহান মাহমুদ, আসমাউল হুমসান, আব্দুল কাশেম অর্পিতা, মুসা ও সাবিতসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।