বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী চীন
বাংলাদেশে বায়ুদূষণসহ বিভিন্ন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। পরিবেশ সংরক্ষণ, বন ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এক সৌজন্য সাক্ষাতে।
বুধবার ১২ মার্চ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তর কার্যালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির নানা দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
আলোচনায় সবুজ উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময়, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবেশমন্ত্রী বায়ু, পানি ও শব্দ দূষণ কমাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নে চীনের ধারাবাহিক সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বিষয়ও উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষকদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, খাল খনন এবং নারীর ক্ষমতায়ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। এসব কর্মসূচি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে জানানো হয়, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি বছর প্রায় পাঁচ কোটি করে গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সভায় গৃহীত পরামর্শের ভিত্তিতে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে এবং মে মাস থেকে দেশব্যাপী কর্মসূচি শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণ কমাতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও আগ্রহ জানান।
বৈঠকে সাভার এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আমিনবাজার ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এর জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ খাতে প্রযুক্তি বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ বৈঠকের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে।