জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য
জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সে সময়ের ঘটনাকে বর্তমান আইনি কাঠামোর আলোকে বিচার করার আগে ঐতিহাসিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি বলেন, যদি অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার হত্যার অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধেও কি মামলা করা হবে এমন প্রশ্ন উঠতে পারে।
বুধবার ১১ মার্চ রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম রিফর্ম ওয়াচ আয়োজিত মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা শীর্ষক এক সংলাপে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যেসব ঘটনা ঘটেছে সেগুলো একটি বিশেষ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের অংশ। সেই সময়ে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গুলিতে ১৪০০ এর বেশি ছাত্র জনতা নিহত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ প্রেক্ষাপটে যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন বা অংশ নিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ বা সংঘাতের পরিস্থিতিতে অনেক সময় এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা স্বাভাবিক পরিস্থিতির আইনি মানদণ্ড দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। তাই সব ঘটনাকে সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘনের আওতায় ফেলা ঠিক হবে না বলে তিনি মত দেন।
জুলাই জাতীয় সনদে অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে সময়কার পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং এই বিষয়ে সম্মত অবস্থান বজায় রাখা প্রয়োজন।
আলোচনায় তিনি আরও বলেন, একটি জাতির ইতিহাসে কিছু সময় আসে যখন সাধারণ আইনগত ব্যাখ্যার বাইরে গিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিতে হয়। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনাবলিকে মূল্যায়ন করা উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।