ঢাকা থেকে কুমিল্লা পৌঁছাতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে কমে গেল ২০ কার্টন খেজুর
সৌদি আরবের বাদশাহ কিং সালমান হিউমেনিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার থেকে বাংলাদেশে পাঠানো খেজুর বিতরণকে ঘিরে কুমিল্লায় প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকা থেকে পাঠানো খেজুর কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর ২০ কার্টন কম থাকার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
বুধবার ১২ মার্চ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি হয়। জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কুমিল্লা জেলার জন্য মোট ৫২০ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেয়। কিন্তু জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা থেকে উপজেলাগুলোতে পাঠানো হয় ৫০০ কার্টন খেজুর।
গত ৮ মার্চ কুমিল্লা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. জাবেদ আলী জেলার ১৭টি উপজেলায় জনসংখ্যার অনুপাতে খেজুর বিতরণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এসব কার্টন পাঠান। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখার চিঠিতেও ৫০০ কার্টন খেজুর বিতরণের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে কুমিল্লা জেলার জন্য মোট ৫২০ কার্টন খেজুর পাঠানো হয়েছিল। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠেছে এবং বিষয়টি নিয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তানিম আহমেদ নামে একজন মন্তব্য করে বলেন, সৌদি আরবের বাদশাহের দেওয়া খেজুর ঢাকা থেকে কুমিল্লায় আসতে গিয়ে যদি ২০ কার্টন হারিয়ে যায়, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করা প্রয়োজন। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. জাবেদ আলী বলেন, তাদের কাছে ঢাকা থেকে ৫০০ কার্টন খেজুরই সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি জানান, চিঠিতে কিছু পরিবর্তন আনা হলেও ওয়েবসাইটে এখনো তা হালনাগাদ করা হয়নি। বিষয়টি জানতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেন তিনি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সরকারি সহায়তার এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ মানুষের আস্থা ও মানবিক সহায়তার মর্যাদা রক্ষাই পারে জনসেবার প্রকৃত মূল্যকে অটুট রাখতে।