ইউনিয়ন পরিষদের চাল বিতরণ ঘিরে সংঘর্ষ, যুবকের মৃত্যু
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ইউনিয়ন পরিষদের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সজিব নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের অন্তত সাত থেকে আটজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার ১০ মার্চ রাতে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত সজিবের বয়স ছিল ২২ বছর। তিনি মিরসরাই উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের খোরমাওয়ালা গ্রামের শাহ আলমের ছেলে এবং স্থানীয় একটি গ্যারেজে কাজ করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা আলিমের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার দিকে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আলিমের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার অভিযোগ করেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার স্বামীকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাওয়ায় প্রতিপক্ষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। তার দাবি, সন্ধ্যার দিকে শাহাবুদ্দিনের অনুসারীরা এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে হামলা চালায়। এ সময় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গেলে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিন দাবি করেন, রিকশার ব্যাটারি চুরির একটি সালিশ বৈঠক এবং পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি ইফতার মাহফিল শেষে ফেরার পথে আলিমের সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং তাতে সজিব নিহত হন।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিনুর ইসলাম জানান, সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নিহত যুবকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি রক্ষায় সহিংসতা নয়, বরং সংলাপ ও পারস্পরিক সহমর্মিতাই হতে পারে স্থায়ী সমাধানের পথ। শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সকল পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।