দুদকের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন
বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট গ্রহণের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের এ আদেশের ফলে তার কারামুক্তিতে আপাতত কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
বুধবার ১২ মার্চ বিচারপতি শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসরুল হক চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান খান, মোতাহার হোসেন সাজু এবং আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন।
এর আগে জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা চার মামলায় গত রোববারও তাকে জামিন দেন হাইকোর্ট। তবে সেই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেছে। বিষয়টি বর্তমানে চেম্বার আদালতে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এছাড়া বেআইনি রায় দেওয়া ও জাল রায় তৈরির অভিযোগে গত বছরের ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে দায়ের করা একটি মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে শাহবাগ থানায় মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। একই ধরনের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালতের জামিন আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট মামলায় খায়রুল হকের কারামুক্তির পথে আপাতত আর কোনো আইনি বাধা নেই।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়াই আইনের শাসনের অন্যতম ভিত্তি। আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়।