নেতানিয়াহুর মৃত্যু গুঞ্জনের মধ্যে নতুন বার্তা দিল ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যু গুঞ্জনের মধ্যে নতুন বার্তা দিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। মঙ্গলবার ১০ মার্চ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গুঞ্জনের মধ্যেই নেতানিয়াহুর বক্তব্য প্রকাশ করেছে ইসরায়েল।
নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা। ইরানে চলমান অভিযানের প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের উদ্দেশ্য ইরানি জনগণকে বর্তমান সরকারের অত্যাচার থেকে মুক্ত করা। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি ইরানের জনগণের ওপরই নির্ভর করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের মূল শক্তিকে অনেকটাই দুর্বল করা হয়েছে এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে গুঞ্জনের মধ্যে নেতানিয়াহুর একটি নতুন ছবি প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের একটি সংবাদমাধ্যম। মঙ্গলবার প্রকাশিত সেই ছবিটি সোমবার ৯ মার্চ তোলা বলে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির হিব্রু সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কয়েকটি বিষয়কে কেন্দ্র করে গুঞ্জনের কারণ তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত চ্যানেলে সর্বশেষ ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে প্রায় তিন দিন আগে এবং ছবিও প্রকাশিত হয়নি কয়েক দিন ধরে। এর আগে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা বন্ধ থাকায় আলোচনার সৃষ্টি হয়।
এছাড়া ৮ মার্চ থেকে তার বাসভবনের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথাও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আত্মঘাতী ড্রোন হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও একটি আলোচিত বিষয় হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের নির্ধারিত ইসরায়েল সফর হঠাৎ বাতিল হওয়া। অনেকেই এই ঘটনাকে নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনো ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন।
তবে এসব গুঞ্জনের বিষয়ে এখনো ইসরায়েল সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে গুজব ও তথ্য বিভ্রান্তি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই এ ধরনের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।