কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের সুযোগ দেবে ইরান
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের রাষ্ট্রদূত বহিষ্কার করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার ১০ মার্চ ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসির বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম।
আইআরজিসি জানিয়েছে, আরব কিংবা ইউরোপের যে কোনো দেশ যদি নিজেদের ভূখণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে এবং দুই দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে, তাহলে তাদের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্ন যাতায়াতের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত একটি জলপথ। এই পথ দিয়েই বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। ফলে এই প্রণালিকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন কমে যাওয়ার সম্ভাবনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি তার প্রশাসন বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট খোলা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যে কোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দ্রুত কূটনৈতিকভাবে সমাধান হওয়াই এখন বিশ্বের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।