যুদ্ধে পরিবার হারানোর শোকেও ইরানের নেতৃত্বে মুজতবা খামেনি
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ব্যক্তিগত বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে তার পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ১০ মার্চ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে টানা বিমান হামলার মধ্যে মুজতবা খামেনির স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং তার তিন সন্তানের একজন ছেলে নিহত হয়েছেন বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। মুজতবা খামেনির পরিবারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
হামলার শুরুতেই নিহত হন তার বাবা এবং ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি শেষ সময় পর্যন্ত এই দায়িত্বে ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে আরেকটি বিমান হামলায় মুজতবা খামেনির মা মানসুরে খোজাস্তে বাঘেরজাদেহ নিহত হয়েছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এভাবে নতুন সর্বোচ্চ নেতার নিকটতম পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাবা, মা, স্ত্রী এবং এক ছেলে নিহত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। এছাড়া কিছু প্রতিবেদনে আরও চারজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় নিহত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক বোন, এক ভাতিজা, এক ভাতিজি এবং এক দুলাভাই থাকতে পারেন বলে ইরানি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, যদিও এসব তথ্য সব ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন সূত্রে নিহতদের পরিচয় নিয়ে কিছু পার্থক্য থাকলেও জানা গেছে, আলী খামেনির পরিবারে চার ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে এবং নিহতদের মধ্যে নাতি নাতনিও থাকতে পারেন।
এদিকে মুজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করাকে স্বাগত জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। দেশটির ৮৮ সদস্যের আলেমদের পরিষদ ভোটের মাধ্যমে তাকে এই পদে নির্বাচিত করে। তবে ভোটের বিস্তারিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা পদটি শুধু আনুষ্ঠানিক নয় বরং রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় কাঠামোর কেন্দ্রীয় ক্ষমতার প্রতীক। এই পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির হাতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব থাকে।
নেতৃত্ব পরিবর্তনের এই সময়েও সংঘাতের উত্তেজনা কমার কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না। সোমবার মধ্য ইরানে নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে এবং একই সময়ে বৈরুতেও হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, সংঘাতের আগুনে শুধু রাষ্ট্র নয়, ব্যক্তিগত জীবনও গভীর ক্ষত বহন করে। শান্তির পথই শেষ পর্যন্ত মানুষের জীবনে স্থিতি ও নিরাপত্তার একমাত্র আশ্রয় হয়ে উঠতে পারে।