মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মাঝে ওমান উপকূলে দেখা মিলল মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনার দিকে মোড় নিয়েছে। সামরিক শক্তি প্রদর্শন ও কৌশলগত অবস্থানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থিরতা আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। মঙ্গলবার ১০ মার্চ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ওমান উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে চলাচল করতে দেখা গেছে এবং এটি ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত শনিবার ও রোববার ওমান উপকূলের বিস্তৃত জলসীমায় টহল দিচ্ছে এই যুদ্ধজাহাজটি। রণতরীটির নিরাপত্তা ঘিরে রয়েছে অন্তত আটটি আধুনিক ডেস্ট্রয়ার। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় নৌ শক্তি উপস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ মার্চ সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরে প্রবেশ করেছে বিশ্বের বৃহত্তম সুপার ক্যারিয়ার ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। যুক্তরাষ্ট্রের এই বড় নৌবহরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে কৌশলগত চাপ ও সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, ওমান উপকূলের কাছাকাছি নৌবাহিনীর এই সক্রিয় উপস্থিতির পেছনে ইরানের একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত পরমাণু স্থাপনাকে ঘিরে উদ্বেগ রয়েছে। মাউন্ট কোলাং গাজ লা নামের পাহাড়ি এলাকায় গভীর ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাহাড়ের প্রবেশপথগুলো কংক্রিট দিয়ে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে যাতে সম্ভাব্য আকাশ বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা যায়। এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে ইরান অল্প সময়ের মধ্যে পরমাণু সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, উত্তেজনা কমাতে দ্রুত কূটনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত নৌ শক্তি মোতায়েনের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমুদ্র ও আকাশপথে নিজেদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরা হলেও ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে। একই সময়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। সামরিক উত্তেজনা নাকি কূটনৈতিক আলোচনার পথ খুলবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা একটাই, সংঘাত নয় শান্তিই যেন শেষ পর্যন্ত মানবতার জয় নিশ্চিত করে।