প্রবাসী ভোটাধিকার আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতি পাচ্ছেন এডভোকেট এ এন এম ঈসা
বিশ্বজুড়ে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে স্বর্ণপদক প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সম্মাননার চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন প্রবাসী ভোটাধিকার আন্দোলনের এক মাত্র উদ্যোক্তা এডভোকেট এ এন এম ঈসা।
শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক ঘোষণায় জানানো হয়, প্রথমবারের মতো বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। এই ঐতিহাসিক উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ করেছেন মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা।
এই প্রেক্ষাপটে কাতারভিত্তিক একটি সংগঠন প্রবাসী ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাদের ভূমিকার মূল্যায়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। সংশ্লিষ্টদের অবদান যাচাই করে একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
চূড়ান্ত তালিকায় গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল ইউকে, হাইকোর্টে রিট পরিচালনার জন্য ডক্টর কামাল হোসেন এবং প্রবাসী ভোটাধিকার আন্দোলনের উদ্যোক্তা এডভোকেট এ এন এম ঈসার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে একটি আন্তর্জাতিক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী প্রতিনিধিরা যুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক ইউরোপ প্রতিনিধি বর্তমানে কাতারপ্রবাসী এম এ রউফ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের রেজা নবী, হাকিকুল ইসলাম, তুফিক মিয়া, কিলটন পাভেল, আলী আশরাফ, তাজুল ইসলাম ও সেপাজ, কাতারের হেলাল উদ্দিন, দুবাইয়ের মরাজ মিয়া, মহারাজ ও আবুল কালাম, সৌদি আরবের আ হামিদ ও হেলাল চৌধুরী, লন্ডনের ফারুক আহমেদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্যের এ কে এম আবু তাহের, উত্তর পূর্ব ইংল্যান্ডের সাইয়েদ খালিদ মিয়া ওলিদ, বির্মিংহামের ফয়সলুর রহমান চৌধুরী, লন্ডনের মোকব্বির খান ও মোস্তাদিক হোসেন মানিকসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এতে যুক্ত আছেন।
এছাড়া ফ্রান্সের জালাল মিয়া ও মিরজা সুমন, ইতালির রেজা আবু সাইয়েদ, কানাডার সুহান ও সপিক, অস্ট্রেলিয়ার আবুল কালাম, ওমানের অ্যাডভোকেট আলম, বাহরাইনের নাজিম উদ্দিন পাটোয়ারী, কুয়েতের অরব আলী ও বাছির, সিঙ্গাপুরের হুসাইন, জাপানের আলী, পোল্যান্ডের আশিক এবং নেদারল্যান্ডসের আসিম মিয়াসহ আরও বিভিন্ন দেশের প্রবাসী প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, প্রবাসী ভোটাধিকার আন্দোলনে যাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে তাদের নাম প্রস্তাব করার সুযোগ এখনো খোলা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপকমিটির নেতৃবৃন্দের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার এই অগ্রযাত্রা শুধু প্রবাসীদের জন্য নয়, বরং একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পথকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে।
কারণ পৃথিবীর যে প্রান্তেই একজন বাংলাদেশি থাকুক না কেন, দেশের প্রতি তার ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা কখনো সীমান্তে থেমে থাকে না।