রেমিটেন্স যোদ্ধাদের অধিকার সুরক্ষায় এডভোকেট এ এন এম ঈসার ৬ দফা দাবি ঘোষণা
বিশ্বজুড়ে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেছে দেশ বন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ আন্তর্জাতিক। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তারা নানা বঞ্চনা ও ঝুঁকির মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
শুক্রবার ৬ মার্চ সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক এডভোকেট এ এন এম ঈসা বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তি হলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স। তাই রেমিটেন্স যোদ্ধাদের সম্মান, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ঘোষিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি।
ঘোষিত দাবির মধ্যে রয়েছে প্রবাসীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ভোটে নির্বাচিত একজন মন্ত্রী এবং দশজন সংসদ সদস্য নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে আসা শ্রমিকদের জন্য একটি স্থায়ী পেনশন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় কমানো এবং দালালচক্রের হয়রানি বন্ধ করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় কম খরচে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের জীবন, মর্যাদা ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
আরও একটি দাবিতে বলা হয়েছে, মোট রেমিটেন্স আয়ের ন্যূনতম দুই শতাংশ দিয়ে একটি বিশেষ রেমিটেন্স কল্যাণ তহবিল গঠন করা উচিত। এই তহবিলের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসীরা দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা পেতে পারেন।
সংগঠনটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক এডভোকেট এ এন এম ঈসা এবং এম এ রউফ কাতার। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিবের তত্ত্বাবধানে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা, এশিয়া ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী প্রতিনিধিরা যুক্ত রয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের জীবনমান উন্নত হবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।
তাদের মতে, প্রবাসীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে শুধু একজন শ্রমিককে সম্মান দেওয়া নয়, বরং সেই মানুষের ঘামে গড়ে ওঠা দেশের অর্থনৈতিক শক্তিকে মর্যাদা দেওয়া।