তেল শোধনাগার ও পানি স্থাপনায় হামলার জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরানের তেল শোধনাগার ও পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনায় হামলার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। দেশটির কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে এ ধরনের হামলার গুরুতর পরিণতি হতে পারে এবং এর জবাব দেওয়া হবে।
রোববার ৯ মার্চ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এ তথ্য জানা যায়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, কেশম দ্বীপের একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলার ফলে প্রায় ৩০টি গ্রামের পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। তিনি এ ঘটনাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা অত্যন্ত বিপজ্জনক পদক্ষেপ এবং এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ একটি নতুন নজির সৃষ্টি করেছে এবং এর দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বর্তায় বলে তেহরান মনে করছে।
এদিকে তেহরান থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা মোহাম্মদ ভল জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় ইরানে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার মতে, ইরান যখন নতুন নজিরের কথা বলছে তখন তা সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। কারণ এ অঞ্চলের মোট পানির প্রায় ৯০ শতাংশ সরবরাহ এসব স্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। ফলে এসব স্থাপনায় হামলা হলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তাই পরিস্থিতি শান্ত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সংযমের গুরুত্ব এখন আরও বেড়েছে।
বিশ্বের স্থিতিশীলতা ও মানুষের নিরাপত্তার জন্য সংঘাত নয়, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শান্তিপূর্ণ সমাধানই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।তেল