লন্ডনের গণপরিবহন কর্তৃপক্ষে সাইবার হামলা, প্রায় এক কোটি মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা সংস্থা ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের ওপর বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনায় বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। এই ঘটনায় প্রায় এক কোটি মানুষের তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে গেছে বলে জানা গেছে, যা দেশটির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ডাটা ফাঁসের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শনিবার ৬ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি সামনে আসে। জানা যায়, ২০২৪ সালে ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন সংস্থার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের সাইবার অনুপ্রবেশ ঘটে। প্রথমদিকে কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমিতসংখ্যক গ্রাহকের তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পরবর্তী তদন্তে নিশ্চিত করা হয় যে কয়েক মিলিয়ন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সাইবার অপরাধীদের হাতে চলে গেছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, সাইবার হামলার সঙ্গে স্ক্যাটারড স্পাইডার নামে পরিচিত একটি হ্যাকার চক্র জড়িত ছিল। তারা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে একটি বড় ডাটাবেস ডাউনলোড করে নেয়। এতে ব্যবহারকারীদের নাম, ইমেইল ঠিকানা, বাসার ফোন নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং ঠিকানার মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই সাইবার হামলার ঘটনা ২০২৪ সালের আগস্টের শেষ দিক থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে সংঘটিত হয়। এতে ট্রেন বা বাস চলাচল বন্ধ না হলেও ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের বেশ কিছু অনলাইন সেবা এবং তথ্য বোর্ড সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়ে। পুরো ঘটনায় প্রায় ৩৯ মিলিয়ন পাউন্ড আর্থিক ক্ষতির কথা জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর সংস্থাটি প্রায় ৭১ লাখের বেশি গ্রাহককে ইমেইল পাঠিয়ে সতর্ক করার উদ্যোগ নেয়। তবে সেই বার্তাগুলোর মাত্র ৫৮ শতাংশ খোলা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে অনেক ব্যবহারকারী এখনো হয়তো বুঝতে পারেননি যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন তথ্য ফাঁসের ঘটনা ভবিষ্যতে প্রতারণা ও অনলাইন জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কারণ চুরি হওয়া ডাটাবেস অনেক সময় বিভিন্ন হ্যাকার ফোরামে আদান প্রদান করা হয়।
এদিকে এই সাইবার হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজন ব্রিটিশ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আগামী জুনে তাদের বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ডিজিটাল যুগে তথ্যই সবচেয়ে বড় সম্পদ। সেই তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি নতুন ঝুঁকিও সামনে আসে। তাই ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় সচেতনতা এবং শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
সূত্র, ওয়ান বাংলা নিউজ।