লন্ডনে গাড়ির ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু, চালকের আট বছরের কারাদণ্ড
লন্ডনের ব্যস্ত স্ট্র্যান্ড এলাকায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী চালককে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ঘটনাটি শহরের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মামলার রায় ঘোষণার বিষয়টি সামনে আসে শনিবার ৭ মার্চ, যখন লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালত এ ঘটনায় অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করে।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে জানা যায়, নিহত আলিয়া মাহোমেদ বয়স ২০। তিনি কিংস কলেজ লন্ডনে পদার্থবিজ্ঞান ও দর্শন বিষয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছিলেন। ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ লন্ডনের স্ট্র্যান্ড এলাকায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সাউদাম্পটনের বাসিন্দা ক্রিস্টোফার জ্যাকসন বয়স ২৭ একটি বৈদ্যুতিক ভ্যান চালানোর সময় অসাবধানতাবশত ব্রেকের পরিবর্তে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দেন। এতে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি ধাতব গেটের সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং দুইজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। পরে গাড়িটি সেই বেঞ্চে গিয়ে আঘাত করে যেখানে বসে ছিলেন আলিয়া মাহোমেদ।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত চালক বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানো এবং বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে গুরুতর আঘাত করার দুটি অভিযোগ স্বীকার করেন। পরবর্তীতে আদালত তাকে আট বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে।
শুনানির সময় আদালতে উপস্থাপিত ভিকটিম ইমপ্যাক্ট বিবৃতিতে আলিয়ার মা সামিরা শাফি জানান, প্রিয় কন্যাকে হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তিনি বলেন, মা ও মেয়ের সম্পর্ক ছিল গভীর বন্ধুত্বের মতো। একসঙ্গে সময় কাটানো, রান্না করা, ভ্রমণ করা এবং জীবনের নানা আনন্দময় মুহূর্ত আজ তার স্মৃতিতে রয়ে গেছে।
আলিয়ার ভাই জাইন মাহোমেদ বলেন, তার বোন ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী এবং প্রাণবন্ত একজন মানুষ। তার হাসি চারপাশের মানুষকে আনন্দিত করত এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে সড়কে প্রতিটি মুহূর্তে সতর্কতার গুরুত্ব কতটা বড়। একটি অসতর্ক মুহূর্ত কখনো কখনো এমন শূন্যতা তৈরি করে, যা কোনো সময়ই পূরণ করা সম্ভব হয় না।
সূত্র, ওয়ান বাংলা নিউজ।