ইরানকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন, দাবি মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্র। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি চীন কিংবা ইরান।
শনিবার ৭ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা অনুযায়ী চীন ইরানকে আর্থিক সহায়তা, সামরিক সরঞ্জামের খুচরা যন্ত্রাংশ এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কিছু উপাদান সরবরাহের বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত বেইজিং সরাসরি এই যুদ্ধে জড়ায়নি।
মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চীন মূলত তাদের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পরিস্থিতির দিকে সতর্কভাবে নজর রাখছে। ইরানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখার বিষয়ে তেহরানকে চাপ দেওয়ার পরিকল্পনাও থাকতে পারে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, চীন তাদের সমর্থনের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তারা সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চায় না এবং দ্রুত যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান দেখতে আগ্রহী, কারণ এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে চীনের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এর আগে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে সংঘাতে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া। যদিও এ বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরান আসলে চীন ও রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক সহায়তা পাচ্ছে কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলতে চাননি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চীন ও রাশিয়া রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানকে সমর্থন করছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। যদিও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া, তবুও তারা সরাসরি সামরিক সহায়তার বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, তবে তা বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কূটনৈতিক সমাধান এবং সংযমই এখন বিশ্বশান্তির সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।